ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

দেশজুড়ে গ্যাস সংকট আরও তীব্র, চরম দুর্ভোগে গ্রাহক ও শিল্প খাত

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সমুদ্রে ভাসমান ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) মেরামত কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিদেশি বিশেষজ্ঞদের আনার পর ত্রুটি শনাক্ত হয়। কয়েক দিনের মধ্যে ত্রুটি মেরামত হবে বলে জানা গেছে।


জানতে চাইলে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার বিদেশি বিশেষজ্ঞরা আসার পরই কাজ শুরু হয়েছে। কবে নাগাদ টার্মিনাল সচল হবে– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটি নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। আরও দুই-চার দিন লেগে যেতে পারে।’


মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালনাধীন একটি জাহাজে গত মঙ্গলবার সকালে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার পর সেটি বিকল হয়ে যায়। চার দিন পার হলেও ত্রুটি পুরোপুরি ঠিক হয়নি। যার প্রভাবে সারা দেশে গ্যাস সংকট দিন দিন আরও বাড়ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেশে রয়েছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ শেষ করলে শিগগির গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে গত মঙ্গলবার ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। আবাসিক এলাকায় চুলা না জ্বলা, সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে। এমনিতেই দেশের চাহিদার চেয়ে ৩০ শতাংশ গ্যাস কম সরবরাহ করা হয়। ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার স্থানে এলএনজিসহ সরবরাহ হয় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এখন তা নেমে এসেছে ২২০ কোটি ঘনফুটে। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে ৪৫ শতাংশ গ্যাস কম দেওয়া হচ্ছে।


বেশ কয়েক বছর ধরে দেশে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম। এই দুটি টার্মিনাল থেকে ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়। কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ আরও কমে গেছে। দেশে প্রতিদিন সরবরাহ করা মোট গ্যাসের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে এলএনজি থেকে। স্বাভাবিকভাবেই এলএনজির সরবরাহ কমলে গ্যাস সংকট বেড়ে যায়। টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর গত ২২ জুলাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এক অনুষ্ঠানে বলেন, এলএনজি গ্রহণ ও রূপান্তরের জন্য মাত্র দুটি টার্মিনাল থাকায় একটিতে সমস্যা দেখা দিলেই সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি হয়।


আরপিজিসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে দুটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে ল্যান্ড বেইজড ও মহেশখালীতে ‘কুতুবজোম’ ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হচ্ছে। সরকার পায়রা বন্দর এলাকায় আরেকটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।


জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র (যুগ্ম সচিব) মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের ওপর পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস নিতে পারছে না। ফলে কয়েকটি স্থানে সিএনজি নিতে দীর্ঘ লাইন এবং জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।


দেশজুড়ে বেশিরভাগ সিএনজি স্টেশনে গাড়িতে গ্যাস দেওয়ার মতো চাপ নেই। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ১৫ পিএসআই (চাপ মাপার একক) গ্যাস পাওয়া যেত, এখন তা নেমেছে ৩ থেকে ৫ পিএসআইয়ে, কোথাও প্রায় শূন্য। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও যানবাহনের জন্য গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।


গত বুধবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। রাতভর অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না অনেক চালক। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক স্টেশন আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page